আবদুল আউয়াল হেফাজতেই থাকছেন, মামুনুল হক সহ কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৯ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২১ বুধবার

আবদুল আউয়াল হেফাজতেই থাকছেন, মামুনুল হক সহ কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ

প্রায় ২ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়ালের মান অভিমান ভাঙানো হয়েছে। আপাতত জেলা আমীরের পদ থেকে ইস্তফা নেওয়ার যে ঘোষণা ছিল সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আবদুল আউয়াল। এখন থেকে জেলা ও মহানগর নেতারা আগের মতই একত্রে কর্মসূচী পালন করা হবে জানিয়েছেন বিরোধ মিমাংসা করতে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা।

৩১ মার্চ বিকেল ৩টায় ডিআইটি মসজিদে আসেন হেফাজতে ইসলামের দুইজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও মামুনুল হক। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসাইন কাশেমী, ফজলুল করিম প্রমুখ।

বিকেল ৩টা হতে ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মহানগর ও জেলার নেতারা হরতালের দিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময়ে কোন বিরোধ না ঘটিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান করেন।

শেষে মামুনুল হক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মাওলানা আবদুল আউয়াল আগের মতই দায়িত্ব পালন করবে। সকল প্রকার মান অভিমান সব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘হেফাজত কখনই বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় না। হরতালে হেফাজত ছিল অহিংস। হেফাজত কোন ধরনের হামলা মারধর ভাঙচুর করেনি। এটা বহিরাগত কেউ করেছে। এটা সাবোটাজ হতে পারে। হেফাজতে ইসলাম সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’

২৯ মার্চ সোমবার বিকেলে দেওভোগ মসজিদে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সারা দেশে মোদি বিরোধী বিক্ষোভে আহতদের সুস্থতা কামনা ও নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনায় মাওলানা ফেরদাউসুর বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রে অভিযোগ করব এবং ঢাকা মহানগরে অভিযোগ দিয়েছি যে এই সভাপতি আমাদের চলবে না। ওনার অতিতের ইতিহাস এরকম। উনি যখন হার্ডলাইনে দেখে তখন ব্যাকফুটে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলার আমীর আল্লামা আব্দুল আওয়াল সাহেব সকাল ১০ বাজে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন এই ঘোষণার সাথে আমরা একমত ছিলাম না।’

এদিকে ২৯ মার্চ সোমবার রাতে শবে বরাত উপলক্ষ্যে ডিআইটি সমজিদে আলোচনায় হরতালের দিন সকাল ১০টায় কেন সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই বিষয়ে জানিয়ে হেফাজত থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল।

এর আগে আবদুল আউয়াল বলেন, ‘২৮ মার্চ হরতালের দিন সকালে মসজিদে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। তারা মসজিদের গেটের সামনে তিনটি কামানা, সাজোয়া যান পুলিশের গাড়ি দিয়ে বেরিকেড দিয়ে রাখে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় মিছিল বের করতে চাইলে অ্যাকশনে যাবে। তাদের উপরের নির্দেশেনা রয়েছে। প্রয়োজনে গুলি করবে। তখন আমি সকলের জানমালের স্বার্থে মসজিদের গেটের বাইরে যেতে বারণ করি। কারণ আমাদের তো অস্ত্র নাই। কিন্তু মহানগরের অতি উৎসাহী নেতারা মিছিল করতে চেয়েছিল। যদি সেদিন মিছিল করতে গিয়ে আমাদের উপর গুলি ছোড়া হতো, কেউ লাশ হতো তখন তো এ আবদুল আউয়ালকে দোষারোপ করা হতো। মসজিদে গুলি ছুড়লে ঝাঝরা হয়ে যেত। তখন আপনারাই বলতেন কেন লাশ হলো মানুষ। এ কেমন নেতৃত্ব। এসব নেতৃত্ব আমরা মানি না। তখন মেয়র আইভী সহ অনেকেই সুযোগ নিতেন আমাকে সরিয়ে দিতে। মামলা হয়েছে। যদি আমরা মিছিল করার চিন্ত করতাম তাহলে সবগুলো মামলার আসামী হতাম আমি সহ সকলে। এ কারণে আমাদের লোকজনও অনেকেই ক্ষুব্ধ। তারা আজকে (সোমবার) ডিআইটি মসজিদে বাদ আছর দোয়া না করে দেওভোগে করেছে। কারণ আমাকে তো বাদ দিয়েই দিছে। তাই আমি আর দল করবো না। ভবিষ্যতে আর নেতৃত্ব দিব না। মসজিদ মাদ্রাসা নিয়েই থাকবো। আমার এখন বার্ধক্য বয়স তাই আমি ভবিষ্যতে আর নেতৃত্বে থাকবে না। আমি আমার জিম্মাদারী ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকবো না। আমার আমির পদ দরকার নাই। আমার পক্ষ থেকে আর কোন দিন ঘোষণা আসবে না। তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা বাবা হেফাজত ইসলাম করো।’

প্রসঙ্গত সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মাদানীনগর, শিমরাইল উত্তপ্ত থাকলেও নারায়ণগঞ্জ শহর ছিল একেবারে শান্ত। ভোর থেকে শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে হেফাজত নেতারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তবে বেলা সাড়ে ১০টার পর থেকে একে একে নেতাকর্মীরা চলে যান।

শহরের ডিআইটি এলাকায় ভোর সকাল থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রেলওয়ে ডিআইটি মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেন। ভোর থেকেই ডিআইটি মসজিদে পুলিশ, বিডিআরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে রাখে। সকাল ৭টার দিকে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই হেফাজতের নেতাকর্মীরা মসজিদের বারান্দা ও আঙিনার মধ্যে হরতালের পক্ষে স্লোগান দেন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মসজিদে ঢুকে হেফাজতের জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মসজিদের ভেতরে কিছু নেতাকর্মী অবস্থান নেন এবং বাকিরা বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও