জুমআর বয়ান চলাকালে হামলা চালালে দুই পক্ষের ব্যাপক হাতাহাতি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ২ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার

জুমআর বয়ান চলাকালে হামলা চালালে দুই পক্ষের ব্যাপক হাতাহাতি

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদে ইমামকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ওই সময়ে একজন রক্তাক্ত হয়।

শুক্রবার ২ এপ্রিল সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, বন্দর সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল্লাহকে নিয়ে কমিটির মধ্যে দুটি গ্রুপড বিভক্ত। একটি গ্রুপ সাইফুল্লাকে সরকারী বিরোধী আখ্যা দিয়ে বিতাড়নের চেষ্টা করে। অপর একটি গ্রুপ তার পক্ষে। পরে এক পর্যায়ে স্থানীয় এলাকাবাসী উল্লেখিত ইমাম সাইফুল্লাকে অব্যহতি প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে একাংশের লোকজন। প্রতিবাদের মুখে পরে মসজিদ কমিটি মাওলানা সাইফুল্লাকে গত ৩ দিন পূর্বে তার পাওনা বেতন দিয়ে তাকে অব্যহতি প্রদান করে।

এমন সংবাদে সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবাদুল্লাহসহ শতাধিক মুসল্লী গিয়ে ইমাম মুফতি সাইফুল্লাহ মিয়াকে অনুরোধ করে জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে নিয়ে আসে।

শুক্রবার জুমআর নামাজের বয়ানের সময়ে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুলসহ ৩০/৪০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মসজিদে প্রবেশ করে হৈ চৈ শুরু করে দেয়। এ সময় ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি এবাদুল্লাহ সহ কয়েকশত মুসল্লীদের মধ্যে পুনরায় তর্ক বিতর্ক শুরু হয়।

এক পর্যায়ে ঈমামের উপর মারমুখী আচরণ করার সময় স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে আজিজুলের বাহিনীর হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু এগিয়ে গেলে তাকে জাতীয় পার্টি নেতা আজিজুল তাকে লাঞ্ছিত করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলো মসজিদের মোতয়াল্লী সিরাজ মুন্সি (৬৫), মুসল্লী আলতাফ (৫০), জালাল মিয়া (৫০) ফয়সাল (২৫) ও ফটো সাংবাদিক ইমরুল কায়েস সোহেল (৪০) প্রমুখ।

এলাকাবাসী আহতদের জখম অবস্থায় উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

মসজিদের ঈমাম মুফতী সাইফুল্লাহ বলেন, মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর। এখানে উচুনিচু কোন ভেদাভেদ নাই। মসজিদে কিছু বেদাতী কাজের চেষ্টা করা হয়। মিলাদের নামে কমিশন প্রক্রিয়া চালু করতে চায়। মসজিদের হিসেব-নিকেশেও তারা গোপন করতে চায়। আমি এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করাতেই আমাকে মসজিদ থেকে তাড়ানোর জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। আজ তারা জুম্মার নামাজের সময় মসজিদে প্রবেশ করেই হৈ চৈ করলে স্থানীয় মুসল্লীরা তাদের এমন অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করে। এ সময় তারা একজন জনপ্রতিনিধির কথা শুনে নাই। আমার উপর যত জুলুমই হোক না কেন সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে আমি এক চুলও নড়ব না ইনশাআল্লাহ।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও