দুর্গা পূজায় ভিড়ে দূরত্ব হারিয়েছে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২১ সোমবার

দুর্গা পূজায় ভিড়ে দূরত্ব হারিয়েছে

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে এখন সারা জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রবিবার সারা জেলার পূজামন্ডপ গুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। মন্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমী। এবার সারা জেলায় ২১৫টি পূজামন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পঞ্জিকা মেনে মাতৃপুজো এ দিন শুরু হওয়ার সাথে সাথে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের উত্তর অংশে পুজোয় উপচে পড়া ভিড়। সব মিলিয়ে শহরের পথেঘাটেও ঠাসাঠাসি ভিড়। পঞ্চমীর গভীর রাতেও নারায়ণগঞ্জের নানা প্রান্তে ব্যাপক ভিড় বিভিন্ন মন্ডপে। মাস্কহীন ভিড় দেখে শহরের নয়ামাটির এক পুজোকর্তা মন্ডপ ছেড়ে বাড়ির দিকে পা বাড়িয়ে ছিলেন।

বললেন, “ওই ভিড় দেখে নিজেরই কেমন ভয় লাগছিল।” ১০ অক্টোবর রবিবার বিকেলে নিতাইগঞ্জ এলাকার এক পুজো মন্ডপের সামনে দুই দর্শককে মাস্ক পরতে বলায় তাঁরা রীতিমতো তেড়ে যায় দুই স্বেচ্ছাসেবকের দিকে। তবে পূজো কমিটির সদস্যেরা কড়া হাতেই মোকাবিলা করেছেন। মাস্ক না-থাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই যুগলকে। পূজো কমিটির লোকেরা বলছেন, মাস্ক দিতে চাইলেও প্রত্যাখ্যান করছেন অনেক দর্শক!

একই ছবি পুরো জেলায়। ভিড়ের গুঁতোয় কোভিড বিধি না-মানার ছবি উঠে এল প্রায় সর্বত্রই। দেখেশুনে মনে হতে পারে, করোনা বলে কিছু নেই, ছিলও না যেন কোনও দিন! আমবাঙালির সচেতনতার বহর দেখে বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক মহল শঙ্কিত।

শহরের দ্বিগুবাবুরবাজার, কালিরবাজার, মাছুয়াবাজার ও নিতাইগঞ্জে বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতার ভিড়। পরে বড় বাজেটের এবং ঐতিহ্যবাহী পুজো মন্ডপে ভিড় হয় শহরে। বিভিন্ন জায়গায় কোভিডি বিধি না-মেনেই ভিড় জমানোর অভিযোগ ওঠে। তবে বিভিন্ন পূজো মন্ডপ থেকে কোভিডি বিধি মেনে চলার আবেদন, সতর্কবার্তাও প্রচার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিডিআর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সব রকমের অপত্তিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, এবারের পূজায় আমাদের ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এবারের পূজার মন্ডপ সংখ্যা যেহেতু বেশি, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেকটা জোরদার হবে। আমাদের ৭৮৭জন কর্মকর্তা পূজা মন্ডপ গুলোতে সার্বক্ষনিক নজরদারি করবেন। এছাড়া আমাদের আরও অনেক কর্মকর্তা সাদা পোশাকে থাকবেন। পাশাপাশি আমাদের কিছু গোপন কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করার জন্য সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবেন। আমরা নারায়ণগঞ্জকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিবো।

শহরের দোকান-বাজারে এ দিন আশপাশের গ্রামাঞ্চল থেকে বহু মানুষ পূজোর কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। ভিড় উপচে পড়ে মার্কেটগুলোতেও । মাস্ক ছাড়াই সেই হুড়োহুড়ি ভিড়ে পরস্পরের গায়ে হামলে পড়েছেন ক্রেতারা। পরে মন্ডপেও ভিড়। শহরের বিভিন্ন বাজার থেকে কালিরবাজার, নয়ামাটি, শহরের আমলাপাড়া, সর্বত্রই থিকথিকে ভিড়। ঠাকুর দেখার ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে । তবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে উদ্যোক্তারা মন্ডপের প্রবেশপথে ‘নো এন্ট্রি লেখা বোর্ড ঝুলিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলছেন, ‘‘পুজোর আগে ফের করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। এখন বেপরোয়া মনোভাব আবার বিপদ ডেকে আনতে পারে।’’

বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পুজো মন্ডপে আসতে শুরু করেছেন। মন্ডপগুলিতে ভিড় না-হলেও মানুষ দলে দলে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। বেশির ভাগেরই মাস্কের বালাই নেই। জামাকাপড়ের দোকানে, রেস্তোরাঁয় ভিড় উপচে পড়েছে। নেই পারস্পরিক দূরত্ব-বিধি। পুলিশি পদক্ষেপ চোখে পড়েছে। তবে তুলনায় কম ভিড় হয়েছে টানবাজারে মন্ডপগুলিতে তেমন ভিড় ছিল না।

অন্যান্য বছরের মতো এ বার আমলাপাড়া ও উকিলপাড়ার পুজোর মন্ডপে পঞ্চমী থেকে লাইন পড়েনি। তবে রাস্তাঘাটে, বিশেষত বাজার এলাকায় ভিড় উপচে পড়ে। দূরত্ব-বিধির নিষেধাজ্ঞা নেই। অনেকে মাস্কও পরেননি।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও