দুর্গোৎসবেও আইভীকে নিয়ে নগ্ন রাজনীতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:১৮ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার

দুর্গোৎসবেও আইভীকে নিয়ে নগ্ন রাজনীতি

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হঠাও মিশনে নেমেছে কিছু সংখ্যক হিন্দু নেতা। এতে করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় প্রধান সার্বজনীন উৎসবে বির্তক সৃষ্টি করায় ক্ষুব্ধ সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

শহরের টানবাজার এলাকায় বঙ্কঁবিহারী আখড়া ও হনুমান জিউর মন্দির দুর্গাপূজা মন্ডপের সামনে ভবনে একটা কালো ব্যানার টানানো হয়েছে। এতে করেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওইসব নেতাদের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

কালো ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক শক্তি মেয়র আইভী ও তার পরিবার কর্তৃক দখলকৃত লক্ষ্মী নারায়ণ আখড়ার দেবোত্তর সম্পত্তি জিউস পুকুর অবিলম্বে ফিরিয়ে দাও দিতে হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এবং বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘সোমবার সকাল থেকেই এটা সকলের চোখে পরে। কে বা কারা লাগিয়েছে সেটা কেউ বলতে পারছেন না। তবে এটা দেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও সংগঠনের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। সবাই বলছে সার্বজনীন এ উৎসবো বির্তক এনে দিলো ওইসব নেতারা।’

বঙ্কঁবিহারী আখড়া ও হনুমান জিউর মন্দিরে প্রতিমা দেখতে গিয়ে চোখে পরে বিমল দাসের। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা হলো সার্বজনীন উৎসব। কিন্তু এতো বড় ধর্মীয় উৎসবেও এ অসুস্থ রাজনীতি করা বন্ধ হয়নি। এরা কিভাবে হিন্দু সমাজের নেতা হয়? যারা পূজার উৎসবকে বিতর্কিত করে। পূজা সবার কিন্তু রাজনীতি যার যার ব্যক্তিগত। এসব ব্যানার থাকলে এসব পূজামন্ডপে অস্বস্তিবোধ করবে ভক্ত দর্শনার্থীরা। তাছাড়া জেলার বাইরে থেকে যারা পূজা দেখতে আসবে তারাও জেনে যাবে নারায়ণগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা কতটা নোংরা মনের মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘মেয়র আইভী যদি পুকুর দখল করে থাকে সেটা নিয়ে বাইরে আন্দোলন করো। কিন্তু পূজা মন্ডপের সামনে কেন? এতে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষ ভিন্ন চোখে দেখবে। পূজা মন্ডপগুলোতে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। উৎসব আনন্দে একটা আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিল এসব নেতারা। অনেকেই ভাববে এটা বুঝি আইভী বিরোধীদের মন্ডপ আর যেখানে নেই সেটা আইভী পন্থিদের মন্ডপ। এতে করে দুর্গাপূজার পবিত্রতা নষ্ট করেছে এসব নেতারা।

টানবাজারের ব্যবসায়ী আফসার উদ্দিন বলেন, ‘এতো বছর ধরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। কখনো দেখলাম এসব নোংরা রাজনীতি। এবারই কেন এসব করে বির্তক সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পূজা মন্ডপের আয়োজকেরা বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা শিখন সরকার শিপন সহ কয়েকজন নেতা আমাদের পূজা মন্ডপে আসে। মেয়র আইভীর বিরোধে কালো ব্যানার দিয়ে বলেন এটা যেন মন্দিরের সামনে টানিয়ে দেই। এতে রাজি না হওয়ায় নেতারা ক্ষেপে যায়। তাই বাধ্য হয়ে পূজার পরিবেশ যেন ঠিক থাকে এজন্য ব্যানার রাখতে হয়েছে। কিন্তু এখনও টানিয়ে দেইনি।’

প্রজন্ম প্রত্যাশা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য বিজয় সাহা বলেন, ‘আমাদের পূজা মন্ডপের সামনে এ ব্যানার টানানোর জন্য বলেছে পূজা পরিষদের নেতারা। কিন্তু এসব টানিয়ে ভক্ত দর্শনার্থীদের মধ্যে বির্তক সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাই না। এজন্য আমরা নিষেধ করেছি। পূজা মন্ডপ কোন রাজনীতির জায়গা না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা জানান, ‘শহরের একটি ছাপাখানা থেকে এক যোগে শতাধিক ব্যানার ছাপা হয়েছে। এগুলো সিটি করপোরেশন এলাকার পূজামন্ডপ গুলোতে দেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি মন্ডপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এগুলো করাচ্ছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলার সভাপতি দীপক কুমার সাহা, সেক্রেটারী শিখন সরকার শিপন, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ দাস, সদস্য সচিব রঞ্জিত মন্ডল, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন পাল, সেক্রেটারী নির্মল চন্দ্র দে সহ কয়েকজন নেতারা যারা মূলত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সমর্থক। সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বির্তকিত করার লক্ষ্যে এসব কিছু করা হচ্ছে।’

ওই নেতা আরো বলেন, ‘জিউস পুকুর যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। এটা কেউ ভরাট করছে না কিংবা দখলও করছে না। আইভীর পরিবারের নামে যেমন আছে তেমনি আরো ২০ থেকে ২২জনের নামেও পুকুরের অংশ আছে। তাহলে কেন একা আইভীকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে সবাইকেই বলা হোক দখলমুক্ত করতে। আর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়র আইভী পুকুর সংস্কার করে দিক সেই দাবি জানানো হোক। মেয়র সেটা না করলে তখন বলতে পারতো আইভী হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছে। আর এসব নেতারা পুকুর দখল করছে তারা সভা সমাবেশ ও মিছিল করে এখন পূজা মন্ডপের সামনে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে তারা তো মাসদাইরে শ্মশানের জায়গা রক্ষায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে একটা কথা বলে না। শ্মশানের জায়গা রক্ষায় কেন এগিয়ে আসে না। সেখানে তো তাদের নেতার বন্ধু দখল করে নিচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব রঞ্জিত মন্ডল বলেন, ‘আমাদের কমিটি গতকাল আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যতটুকু জেনেছি পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারাই মূলত এ ব্যানারগুলো করেছে। আমাদের সংগঠনের নাম দেওয়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোন কথা হয়নি। সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে।’

সার্বজনীন দুর্গাপূজায় এসব ব্যানার পূজার পবিত্রতা নষ্টা করছে বা বির্তক সৃষ্টি করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন রেখে দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাসের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেনি।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন কুমার দাস বলেন, ‘মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে কালো ব্যানার আমরাই লাগিয়েছি। আমরা দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার করতে যে পারিনি তাই।’

এ পুকুর তো আরো অনেকে দখল করে রেখেছে তাদের নাম কেন ব্যানারে নেই? প্রশ্নর উত্তর না দিয়ে তিনি ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তারা রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলার সভাপতি দীপক কুমার সাহার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।’


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও