উৎসব শেষে দুর্গা মাকে বিদায়

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৫ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১ শনিবার

উৎসব শেষে দুর্গা মাকে বিদায়

টানা কয়েকদিনের উৎসব শেষে বেদনাকাতর হয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানানো হয়েছে। ১৫ অক্টোবর বিকেল হতেই নারায়ণগঞ্জের মন্ডপগুলো হতে প্রতিমা নিয়ে শীতলক্ষ্যায় বিসর্জন দেওয়া হয়।

পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের শেষ দিনে সকালে মন্ডপে মন্ডপে দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দর্পণ বিসর্জন এবং শান্তিজল গ্রহণের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় দেবীর শাস্ত্রীয় বিসর্জন।

এ কারণে নারায়ণগঞ্জে পূজা মন্ডপগুলোতে সকাল থেকে বিরাজ করে বিদায়ের করুণ সুর। মাকে বিদায় দিতে সকাল থেকেই চলে প্রস্তুতি। পূজা অর্চনা শেষে তৈরি করা হয় বিদায়ের জন্য।

দুপুর থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের পূজা মন্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো গাড়িতে করে নেওয়া হয় শহরের ৩নং মাছ ঘাট এলাকাতে। এসময় শহরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খোলা ট্রাক, পিকআপ ভ্যান সহ বিভিন্ন খোলা যানে করে প্রতিমাগুলো নেওয়া হয় ঘাটে।

৩নং মাছ ঘাটে তৈরি করা হয়েছিল একটি অস্থায়ী মঞ্চ। ওই স্থানে বিসর্জন দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যার টলমলে পানিতে। এছাড়া ফতুল্লার প্রতিমাগুলো বুড়িগঙ্গা, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজারের প্রতিমা মেঘনায় বিসর্জন দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধায় বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইপাশে ও মধ্যবর্তী ডিভাইডারে বিজয়া দশমীর সাজে সেজে অসংখ্য সনাতন নারী, পুরুষ ও শিশুকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন মন্ডপের প্রতিমাগুলো ট্রাকে করে বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হাত জোর করে দুর্গাকে শেষ বিদায় জানান অপেক্ষারত এই ভক্তরা। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রত্যেকটি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের আগে বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে যায় ট্রাকগুলো।

তাদের কাছ থেকে জানা যায়, বিসর্জনের সময় ঘাটে প্রচুর ভীড় থাকে, তাছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা বেশি মানুষকে জেটির আসেপাশে যেতেও দেয় না। তাই বঙ্গবন্ধু সড়কেই তারা অপেক্ষা করে প্রতিমার জন্য, এবং এখানেই শেষ বিদায় জানায় দেবীকে। তাছাড়া উঁচু ডিভাইডার থেকে প্রতিমাকে আরও ভালোভাবে দেখা যায় বলেও জানান তারা।

স্মৃতি রায় নামের এক বৃদ্ধা জানান, প্রতি বছরই বিকাল থেকে রাস্তায় অপেক্ষা করি মাকে দেখার জন্য। মাকে শেষবার বিদায় জানাতে আমার পরিবারের সবাই আসি।

বিথি সাহা নামের এক কিশোরী জানায়, দশমীর রাতে এভাবে মাকে বিদায় জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে ভালো লাগে। তাছাড়া সবাই একসাথে এই বিজয়া দশমীর উৎসবের এই র‍্যালিতে বেশ আনন্দ করি।

প্রতি বছর দুর্গতি নাশিনী দুর্গা মায়ের পূজা অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপন করা হয়। সবাই দুর্গা মাকে আহ্বান করে বলে - ‘মাগো, তুমি আমাদের দুর্গতি নাশ করে দাও, আমাদের মানসপটে লালিত-পালিত হিংসা বিদ্বেষ-হানাহানি দূর করে দাও। আমাদের শক্তি দাও, আমাদের শান্তি দাও’।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও