সারোয়ারের নিঃশেষিত যৌবনের উপর দাঁড়িয়েই শক্ত অবস্থান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার

সারোয়ারের নিঃশেষিত যৌবনের উপর দাঁড়িয়েই শক্ত অবস্থান

সামাজিক সংগঠন আনন্দধামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা তানভীর হায়দান খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে প্রয়াত আওয়ামী লীগ গোলাম সারোয়ার সম্পর্কে লিখেছেন।

এতে তিনি লিখেন, ‘গোলাম সারোয়ারকে আমরা যেন ভুলে না যাই। আজকে অনেকেই যারা রাজনৈতিক মঞ্চে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে কিংবা আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জে যে শক্ত অবস্থান তার অন্যতম নির্মাতা ছিলো আমাদের নারায়ণগঞ্জের প্রবাদ পুরুষ শামীম ভাইয়ের (শামীম ওসমান) এই প্রিয় শিষ্য, আমার প্রিয় বন্ধু গোলাম সারোয়ার।

আশির দশক ও নব্বই দশকের আওয়ামী লীগ রাজনীতির সেই কঠিন সময়ে তদানীন্তন সরকার ও সরকারী দলের রসানল থেকে আওয়ামী কর্মীদের রক্ষার জন্যে সারোয়ারের বজ্র কঠিন সাহসী ভূমিকা কল্পকাহিনীকেও হার মানায়।

আজ আমি প্রত্যক্ষ রাজনীতির বাহিরে, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, তাই সাহস করে বলতে পারছি যে গোলাম সারোয়ারের নিঃশেষিত যৌবনের উপর দাঁড়িয়েই আজকে আমাদের এই শক্ত অবস্থান।

আজকে যারা নতুন প্রজন্ম, যাদের বয়স ৩০ কিংবা তার নিচে তারা হয়তো অনেকেই জানেনা আওয়ামী রাজনীতির এই মহান বীর পুরুষ সারোয়ারের বীরত্ব গাথা। আমি অনুরোধ করবো সবাইকে তোমরা ভুলে যেওনা এই মানুষটিকে। তোমাদের দোয়া আর প্রার্থনায় ওকে স্মরণ রেখো। আর তার রেখে যাওয়া পরিবার ও ওর তিন ভাই প্রিয় হেলাল, সাজনু ও আজাদের প্রতি ভালোবাসা রেখো।

বন্ধু আড্ডায় আজও যখন সারোয়ারের কথা উচ্চারিত হয় তখন ভালবাসায় নিরবে চোখের জলে ভেসে উঠে তার স্মৃতি। জাবেদ, ইকবাল, শাহাদাৎ সাধু, খানপুরের কাদির, রাকিব, ধনা, নাসির, নিয়াজুল, শাহীন (খাজা মার্কেটের) এই রকম আরো অসংখ্য বন্ধু আজও নিরবে নিবৃতে সারোয়ারের স্মৃতি বহন করে চলেছে। আমি বাংলাদেশে আসলে সারোয়ারের স্মৃতিময় বীরত্ব গাথা তুলে ধরতে প্রয়াস নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

প্রসঙ্গত ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনামলে শামীম ওসমানের ভরসার পাত্র ছিলেন সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল, মিঠুরা। এর মধ্যে তৎকালেই ওসমান পরিবারের পাশাপাশি সারোয়ার পরিবারও ছিল রাজনীতিতে সক্রিয়। ৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সময়ে আলোচিত ছিলেন গোলাম সরোয়ার ও নুরুল আমিন মাকসুদ। এ দুইজনের মধ্যে গোলাম সারোয়ারকে ওই সময়ের ও বর্তমানের এমপি শামীম ওসমানের ডান হাত আর নুরুল আমিন মাকসুদকে বাম হাত হিসেবেই সবাই জানতো। শামীম ওসমানের পর এ দুই সেনাপতির অধীনে ছিল নিচের সারির লোকজন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর গোলাম সারোয়ার চলে যান ভারতে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর গোলাম সারোয়ার চলে আসেন ঢাকাতে। সালের ৩০ অক্টোবর মৃত্যুর আগের ২০ দিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গোলাম সারোয়ার। তার প্রচ- জ¦র ছিল। প্রথমে তাকে ল্যাব এইডে নেয়া হলে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে। সেটাই তাকে বেশী ক্ষতি করেছে। পরে তাকে ল্যাব এইড থেকে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। তবে তারপরেও তার শারীরিরক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ও পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও