করোনায় আলোচিত নারী মেম্বার রোজিনার নামে ফেক আইডি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৩২ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার

করোনায় আলোচিত নারী মেম্বার রোজিনার নামে ফেক আইডি

নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা আক্তারের নামে ফেসবুক ও ইমোতে ফেক আইডি খুলে লোকজনদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কে বা কারা ওই আইডি খুলেন।

রোজিনা আক্তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় এলাকাবাসী আসসালামুআলাইকুম। কে বা কাহারা আমার নামে ফেক আইডি খুলেছে দয়া করে কেউ এই আইডির সাথে এড হবেন না। আমি এই আইডির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি আর এই আইডিতে ঢুকে রিপোর্ট করুন। এই আইডিটা এক বোন চালাচ্ছেন। কিভাবে এক নারী হয়ে আরেক নারীর সম্মান নষ্ট করে।

কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ লিখেছেন, ‘ভাল কাজের খেসারত। প্রবাদ আছে যখন দেখবে তোমার শত্রু তৈরী হচ্ছে তখন বুঝবে তুমি ভাল কাজ করছো। এনায়েতনগর ইউপি মেম্বার ও টিম খোরশেদ নারী টিমের সমন্বয়কারী রোজিনা আক্তার দেশে প্রথম মহিলা যিনি টিম খোরশেদ এর আহবানে সাড়া দিয়ে করোনায় মৃত নারী মরদেহ গোসলের জন্য এগিয়ে আসেন। দিনের পর দিন রাতের পর রাত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা ছুটে বেড়িয়েছেন করোনা মরদেহ গোসল দিয়ে কাফন পরানোর জন্য। সেই রোজিনার নামে এ ধরনের ফেক আইডি খুলে প্রচারনা করা হচ্ছে।নিয়ম মোতাবেক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সম্ভবত সেই কারনেরই এমন নগ্ন কাজ করছে কেউ। যারা এমন অপপ্রচারে লিপ্ত হয় তারা আল্লাহ ও তাদের নিজেদের কর্মের প্রতি বিস্বাস করে না।তাই তারা এমন এমন হীন কাজ করে।’

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসের হটস্পট নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। কিন্তু, প্রতি সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। মৃতদের দাফন কিংবা সৎকার করা নিয়ে দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে স্বজনদের।

স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো মৃতদেহ দাফন ও সৎকার করে থাকলেও নারীদের মরদেহ গোসল করানো নিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পরতে হয়। এ পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা আক্তার।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য হলেও, মরদেহ গোসল করাতে ইউনিয়নের বাইরেও গিয়েছেন তিনি। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই তিনি মাস্ক, লিফলেট ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে মরদেহ দাফনে গঠন করা হয় ‘মাসদাইর যুব কল্যাণ সংঘ (এমজেকেএস)-টিম রোজিনা কোভিড-১৯’।

রোজিনা আক্তার পশ্চিম মাসদাইর এলাকার মরহুম আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তার দুই ছেলের মধ্যে রেজোয়ান আহমেদ রাজু বড় আর রায়হান আহমেদ ছোট।

রোজিনা আক্তার বলেন, ‘প্রথম যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, আর কাউন্সিলর খোরশেদ ভাই করোনায় মৃতদের মরদেহ দাফন ও সৎকারের কাজ করছিলেন তখন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই, “যদি কোনো মা-বোন মারা যায় তাহলে গোসলের কাজটি আমি সম্পূর্ণ করব।” সে সময়, নারীরা মারা গেলে কেউ এগিয়ে আসছিল না কিংবা নারীদের গোসল করাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনও হয়েছে এক নারী মারা গেছেন তার মরদেহ গোসল করানোর জন্য বাইরে বের করতে দেয়নি প্রতিবেশীরা। তারা বলেন, বাথরুমে গোসল করান। শেষে বারান্দায় গোসল করিয়েছি। আবার মৃতের পরিবার বলছে, গোসল করিয়ে জায়গা পরিষ্কার করে দিয়ে যান।’

রোজিনা আক্তার বলেন, ‘এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। মারা গেলে আত্মীয়রা বাড়িতে আসে, কিন্তু মরদেহ ধরতে চায় না। স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও, ডেকে পাঠায় যাওয়ার জন্য। যতদিন পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে আমার আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।’

তিনি এখনও করোনায় আক্রান্ত হননি বলে জানান রোজিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘একবার পরীক্ষা করিয়েছি। তখন রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তারপর আর নমুনা দেইনি। কোনো উপসর্গও নেই। আর আমি পরিবার থেকে আলাদা থাকছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘নারীর মরদেহ দাফনে আমরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পরেছি গোসল করানোর জন্য। করোনার ভয়ে গোসল করানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসছিল না। তখন রোজিনা আক্তার আসায় আমাদের সব কিছু সহজ হয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত আমরা যখনই তাকে জানিয়েছি মরদেহ গোসল করাতে হবে, সেটা রাত কিংবা দিন, সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছেন। তিনি একজন করোনার অকুতোভয় নারী।’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও