অসহায় মাতৃভূমি আমাকে ঘুমাতে দেয়না : এটিএম কামাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:২৩ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০২০ রবিবার

অসহায় মাতৃভূমি আমাকে ঘুমাতে দেয়না : এটিএম কামাল

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল বর্তমানে আমেরিকাতে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সঙ্গে আছেন স্ত্রী কেয়া।

৪ অক্টোবর তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কেয়া ও আমার চিকিৎসা আর পারিবারিক কিছু জরুরী কাজে এবার আমেরিকায় এসেছি প্রায় ৭ মাস হয়ে গেল। করোনার কারণে সবকিছুতেই বিলম্ব হয়ে গেল। আমরা যখন এখানে এসেছি তখন শীত বিদায় নিয়েছে। এখন আবার শীত দুয়ারে কড়া নাড়ছে। তাই দিনগুলো ছোট হয়ে এখন রাত দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, গাছের সবুজ পাতাগুলো লাল হয়ে ঝরে পড়ছে, এটা শীতের আগমনী বার্তা।

আমার রাতগুলো দেশেবিদেশে এমনিতেই সবসময় বড় হয়, দিনে একভাবে না একভাবে সময় কেটে যায়, রাতগুলো কাটেনা।

দেশেতো দীর্ঘ ফেরারি জীবনে এখান ওখানে পালিয়ে বেড়ানো বা দফায় দফায় গ্রেফতার হয়ে থানার গারদে, জেলখানায় সব জায়গাতেই ঘুমের একই অবস্থা।

আজকাল বয়সের কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশের বিদ্রোহ। এ জীবনে শরীরের উপর ধকলটাতো কম যায়নি, সেই ৯৭ এ নারায়ণগঞ্জ শহরে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারেনা, ভয়ে মামলার হাজিরাও দিতে যায়নি কেউ আদালতে। তারপরেও বিভিন্ন পথে রাতে নারয়ণগঞ্জে এসে অবস্থান নিয়েছি কেন্দ্র নির্দেশিত কর্মসূচী পালন করার জন্য, একেক সময় একেক এলাকায় অবস্থান নিয়েছি, কখনো কোন নির্মাণাধীন ইমারত, নয়তো কোন খানকায়, রাতভর ঘুমাইনি, মাঝে মাঝে নিতাইগঞ্জে প্রয়াত রফিক কমিশনারের রিক্সার গ্যারেজে, সারারাত মশার কামড় খেয়ে অপেক্ষা করেছি কখন সকাল হবে, ঝটিকা পদ্ধতিতে বিক্ষোভ সমাবেশ বা মিছিল করে আবার ফিরে এসেছি ঢাকায়।

সে এক রোমাঞ্চকর সময়ের উপাখ্যান। একদিন মিছিল নিয়ে ডায়মন্ড চত্বর হয়ে একনং রেল গেইটের কাছে পৌছেছি, সেখানে পুলিশ আর ডিবি ঘেরাও করে ফেললো, সবাই যে যেভাবে পারলো জান বাঁচালো, কেউ কেউ মানুষের ভিড়ে মিশে গেল। আমি কোন উপায়ান্তর না দেখে সাংবািদক আবু সাউদ মাসুদ ভাইয়ের পত্রিকা অফিসে ঢুকে গেলাম। মাসুদভাই সম্পাদিত সোজাসাপটার অফিস তখন ১নং রেল গেইটের পাশে একটি বিল্ডিং এর উপরে। তিনি তখন মানবজমিন পত্রিকারও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন। আল্লাহ সহায় ছিলেন সে সময় মাসুদ ভাই অফিসে ছিলেন। মাসুদ ভাই সারাদিন উনার অফিসে রেখে রাতে নিরাপদে ঢাকা যাবার ব্যবস্থা করে দিলেন।

এরপর শীতলক্ষ্যার পানিতো আর কম গড়ালোনা, রাজনীতির নানা উত্থান পতনে কতবার রাজপথে বেধরক লাঠি চার্জের শিকার হয়ছি, রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন আর চোখ বেঁধে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় পরীক্ষা নিরিক্ষার হুমকি।

এখানে এখন এসব কোনকিছুই নেই, রাতে এই বুঝি পুলিশ ধরতে আসলো বলে আতংক নেই, কারাগারের ওয়ার্ড নামের অস্বাস্থ্যকর গ্যাস চেম্বার নেই, রাজপথে পুলিশের পৈশাচিক নির্যাতন নেই, খাবরের কষ্ট নেই, তার পরেও রাতে চোখে ঘুম নেই !!! বিছানায় ছটফট করে সারারাত কেটে যায়। চোখের সামনে ভাসে আমার অসুস্থ মায়ের মুখ, আর অন্যদিকে অসহায় মাতৃভূমি, আমাকে ঘুমাতে দেয়না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও