কবরী আপাকে নিয়ে না বলা কিছু কথা

ডেস্ক রিপোর্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:০০ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১ সোমবার

কবরী আপাকে নিয়ে না বলা কিছু কথা

মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন সম্প্রতি করোনায় মৃত্যুবরণ করা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি ও চলচিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

‘‘রবিন কেমন আছো? বাসায় না প্রেসক্লাবে? কমন দুটি প্রশ্ন। একই সঙ্গে প্রাণবন্ত হাসির শব্দ ভেসে আসতো ফোনের অপর প্রান্ত থেকে। মায়াবী কন্ঠে হাজার কথার মধ্যে শেষ কথাটা থাকতো এই ঢাকায় আসলে অবশ্যই বাসায় আইসো। জ্বি আপা আসবো। আজ কথাগুলো স্মৃতি হয়ে গেলো। আর কোন দিন কবরী আপা ফোন করে জানতে চাইবে না কেমন আছি, বাসায় আইসো। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২ টায় আপার মৃত্যুর কথা শুনার পর নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম অনেকটা সময়। বিশ্বাস করতে কস্ট হচ্ছিল আপা নাই। বেদনায় চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল। শোক প্রকাশ করে আপার জন্য একটি স্ট্যাটার্স দিবো সেই ভাষটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। আপার সাথে অসংখ্য স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে আসছিল। শেষবারের মতো আপার সাথে মোবাইলে ১৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড কথা হয়েছিল। এটাই ছিল আমার সাথে আপার কম সময়ের কথা। কারণ এক ঘন্টার বেশি সময় আপার সাথে কথা হতো। কতটা আপনজনের মতো আপা তার জীবনের নানা গল্প শেয়ার করেছেন। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে আপার কথা শুনতাম। যা বলে শেষ করা যাবে না। কথা কত কথা, কত গল্প, কত পরিকল্পনা ছিল আপার। আপা বলতো এখন আর নিজের জন্য ভাবি না। বয়স তো শেষ। কখন চলে যাই। রবিন সারাদেশ চষে বেড়াবো। অসহায় মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাই। তুমি কিন্তু আমার সাথে থাইকো। এক বাক্যে বলেছি আপা এটা তো আমার সৌভাগ্য। আপনার মতো গুণি মানুষের সংস্পর্শে কাজ করবো। এসব কথা মনে হলে চোখ ভিজে যায়। অনেক কাছ থেকে আপাকে দেখিছি। বাহিরে যেমন-তেমন, বাসায় একেবারে সাধামাঠা একজন মানুষ হিসেবে দেখেছি আপাকে।’’

‘‘একদিক আপা সাথে কথা প্রসঙ্গে বললেন, রবিন যখন খুব ভালো থাকি। ভালো ভালো খাই। বাইরে প্রচন্ড গরম আমি এয়ারকন্ডিশনের ভেতর বসে আছি। তখন মনে হয় আমার থেকে কত অসুখি মানুষ আছে। আমি কত সুখি। তাদের জন্য কষ্ট লাগে। রাস্তার মধ্যে যখন দেখি রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত ছোট ছোট বাচ্চারা নোংরা কাপড় পড়ে মার্কেটের সামনে ঘুরছে। আর আমরা দামী দামী গাড়ি নিয়ে শপিং করি। আসলে ওদের মেন্টালিটি এমন হয়েছে যে, যদি বলি চল আমার সঙ্গে খেতে দিব। কাপড় দিব। স্কুলে পাঠাবো কিন্তু ওরা আসে না। তখন আমার মনে হয় ওদের মেন্টালিটিটা কী নষ্ট হয়ে গেল? ক্ষুধার জন্য ধরে নিলাম ওরা খাবার পাচ্ছে ওখান থেকে। কিন্তু ওদের যে মানসিক বিকাশ দরকার। সেটা তো হচ্ছে না।’’

‘‘২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কবরী আপা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী। নিউজ কাভারেজ করতে গিয়ে আপার সাথে পরিচয়। সেই থেকে দীর্ঘ পথচলা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গুলশান থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার সময় আপা ফোন দিয়ে বলতেন রবিন কই? আমি আসতেছি। থাইকো। ফতুল্লায় আপার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিউজ কাভার করতে গিয়েছি। এক সাথে দুপুরে খাবার খেয়েছি। ছোট ভাইয়ের মতো আদর স্নেহ করতেন আপা। একদিন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে আপা খবর পাঠালো। সেখানে গিয়ে দেখি আপা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের কথা বলছিলেন। ভেতরে ঢুকে সালাম দিতেই আপা আমাকে ডেকে তার পাশের চেয়ারে বসালেন। নেতাদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্য করে আপা বললেন, আপনারা শুনেন। পরামর্শ করার জন্য একজন এমপির ২-৪ জন লোক থাকে। রবিন তাদের একজন। মানে আমার উপদেষ্টা। আমি আপার এই কথা শোনার পর হতবাক। আপা জানতে চাইলেন ঠিক আছে। আমি শুধু মাথা নাড়লাম। কিছু বললাম না। সবাই তো করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালো। কিন্তু আমি আপার সাথে দুরুত্ব বাড়িয়ে দিলাম। আপা টের পেয়ে ফোন দিলেন। বললেন কি সমস্যা? বললাম আপা এতবড় পদের মানুষ আমি না। তাছাড়া আমি সাংবাদিক। রাজনীতি করি না। আমি তো সব সময় আপনার সাথে থাকতে পারবো না। আমি দুর থেকেই আপনাকে সহযোগিতা করবো। আপা বুঝলেন। এভাবেই চলছিল। কিন্তু আপা নাছোড় বান্দা। আমাকে একটু সম্মানের জায়গায় রাখতে পারলে মনে হয় তাঁর ভালো লাগতো। তাই একদিন সকালে আপার ফোন। রিসিভ করতেই আপা বললেন শুনো, আমি তোমাকে কানাইনগর (ফতুল্লার বক্তাবলী) উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি করতে চাই। বললাম আপা সম্ভব না। আমি অলরেডি আমার এলাকায় একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য। এই কথা শুনে আপা একটু কস্ট পেলেন মনে হয়। আপাকে বললাম আপা আপনি আমাকে স্কুলের সভাপতি করতে চেয়েছেন আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি কতৃজ্ঞ আপনার কাছে।’

‘‘এদিকে আমি আমার ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আপার সাথে অনেকটা দূরত্ব তৈরী হয়ে গেলো। যেখানে দুই-একদিন পর পর কথা হতো সেখানে মাসে দুই মাসে একবার কথা বলতাম। কিন্তু আপার প্রতি শ্রদ্ধা কমেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আপা আর নির্বাচন করেননি। আপা গুলশানের বাসায় একদিন ডেকে নিলেন। সকালে নাস্তা-দুপুরের খাবার-বিকালের নাস্তা খেলাম একসাথে। দীর্ঘ এই সময়ে নারায়ণগঞ্জে ৫ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে আপা কথা বললেন। সুইজারল্যান্ড থেকে আসা আপার এক বন্ধুও তখন ছিল। ভদ্রলোক সাংবাদিক। সুইজারল্যান্ডের সিটিজেন। অনেক কথার মাঝে সুযোগ বুঝে আপাকে বললাম আপনার অনেক ভুল ছিল। বিশেষ করে আপনার পিএস সেন্টু আপনাকে ডুবিয়েছে। কথাটা বলতেই অনেক রাগান্বিত হয়ে বললেন আসলেই রবিন, ও (সেন্টু) আমার অনেক ক্ষতি করেছে। বুঝতে পারিনি। বললাম আপা আমরা বুঝেছিলাম প্রথম থেকেই। আপা বললেন বলনি কেন? বললাম আপা তখন বললে আপনি হয়তো বিশ্বাস করতেন না। কারণ সেন্টু আপনার কাছে অনেক বিশ্বস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আজকে আপনার পাশে কেউ নাই। এই না থাকটার জন্য সেন্টু দায়ী। সেন্টুর কারণে অনেক দলীয় নেতাকর্মী আপনার কাছ দুরে সরে গেছে। তাছাড়া সেন্টু নিজেও চায়নি নেতাকর্মীরা আপনার সান্নিধ্যে আসুক। আপা সেদিন আমার কথা শুনে কিছুটা সময় নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। দীর্ঘ নি:শ্বাস ছেড়ে বললেন, রবিন আপন মানুষগুলোকে চিনতে পারলাম না। যারা আমার কাছ থেকে কোন সুবিধা নিতে আসেনি, সহযোগিতা করতে এসেছিল, তাদের দুরে ঢেলে দিয়েছি অনেকগুলো সুবিধাভোগী লোকের কারণে। তবে আমার নিজেও ভুল ছিল। আবার দলের লোকজনও তেমন একটা সহযোগিতা করেনি, নির্বাচনের সময় ও নির্বাচিত হওয়ার প্রথম দিকে কাছে থাকলেও ধীরে ধীরে তারা সরে যায়। সব চেয়ে বড় কথা আমি তো সরাসরি রাজনীতির মানুষ নই। রাজনীতির মারপ্যাচও বুঝতে পারিনি। তাহলে হয়তো সুবিধাভোগীরা আমাকে এতোটা মিস গাইড করতে পারতো না। আপার আক্ষেপ, অসহযোগিতা আর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে তিনি তার নির্বাচিনী এলাকার মানুষের জন্য কাংখিত উন্নয়ন করতে পারেননি। এ জন্য তিনি ব্যথিত হয়েছেন। বলেছেন, রবিন আবার যদি কোন দিন সুযোগ পাই এই ভুল আর করবো না। নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করবো, এলাকায় উন্নয়নে কাজ করবো। ওইদিন অনেক কথা হয় আপার সাথে।’’

‘‘২০১৫ সালের ২ আগস্ট মানবজমিনের জন্য আপার দীর্ঘ সাক্ষাতকার নিলাম আপার বাসায় বসে। মানবজমিনের সিনিয়র বার্তা সম্পাদক সাজিদ ভাইয়ের আ্যাসাইনমেন্ট ছিল। চার পর্বে মানবজমিন অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল সাক্ষাতকারটি। সাক্ষাতকার নেয়ার সময় আপা মজা করে বললেন আমার কথাগুলো নিয়ে রাখো। যেদিন থাকবো না। মনে করবা। তবে সব কথা এখন লিখো না। তোমার কাছে রেখে দাও।’’

‘‘মাঝে মাঝেই আপার সাথে কথা হতো। কখনও আমি ফোন দিতাম কখনো আপা। তবে বেশিরভাগ সময়ই আপা ফোন দিতেন। কারণ নারায়ণগঞ্জে কোন ঘটনা ঘটলেই বিস্তারিত জানতে চাইতেন। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে একদিন আপার বাসায়। কথা প্রসঙ্গে আপা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার স্মৃতি চারণ করলেন। বললেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কোন রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, একজন অভিনেত্রী এবং শিল্পী হিসেবে মানবতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাবা, মা, ভাই-বোন, সম্পদ, লোভ-লালসা সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে আমি ভাষণ দিয়েছিলাম। এবং জনসম্মুখে কেঁদেছিলাম এজন্য যে, পাকিস্তানি বাহিনী যেভাবে হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছিল আমাদের দেশের মানুষের উপর তাদের হাত থেকে যেন আমার দেশের মানুষ অতি দ্রুত রক্ষা পায়। সেজন্য আমি মানুষের কাছে, বিশ্ববাসীর কাছে যে আহ্বান জানিয়েছিলাম তার পরিণতি যে কী হতে পারে তা একবারও আমার মনে আসেনি এবং ভাবার কোন অবকাশও ছিল না।’’

‘‘আপা বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান সম্বলিত আমার বিখ্যাত ভাষণ ভারতের ‘আকাশবাণী` থেকে মাঝে মাঝেই বাজানো হতো। আমার এই ভাষণ মা-বাবাসহ বাংলাদেশের অনেক মুক্তিকামী মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধারাও শুনেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা জানতে পারি।’’

‘‘আপা বলেন, একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি যখন মম্বাইতে থাকি। তখন ওখানে ব্লাড ডোনেশনের এজন্য একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল। আহত সৈনিকদের জন্য রক্ত লাগবে। সেখানে বাংলাদেশী এবং ভারতীয় সৈনিক ছিল। আমি প্রথম ব্যক্তি। যে রক্ত দিয়ে ব্লাড ডোনেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছি। তখন দেখা গেল আমাদের পাড়ার থেকে সমস্থ মহিলা ঝাপিয়ে পড়লো রক্ত দেয়ার জন্য। পরিশেষে আপা বললেন, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভারত যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সেটা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি আমি।’’

‘‘আপা আরও বলেন, দেশের জন্য লড়াই করতে পেরেছিলাম বলে আমি গর্ববোধ করি। এছাড়া আমার দুই ছোট্ট শিশুও সে সময় আমার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। এটাই আমার সবচেয়ে গর্ব ও সার্থকতার বিষয়। এখন আমার উপলব্ধি হয় যে, মানুষকে তো মরতেই হবে৷ তাই এমন কিছু করেই মরা ভালো৷ তাই আমার এখন মরতেও দ্বিধা নেই। যা হোক, আজও আমি লড়াই করে যাচ্ছি সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অধিকারের জন্য।’’

‘‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচন করার জন্য আপা উদ্যোগী হলেন। বলেছিলেন রবিন ‘আপা’ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) চাইলে করবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে আপার খুব ইচ্ছে ছিল এফডিসির দায়িত্ব পেলে চলচিত্র জগতটাকে ঢেলে সাজাবেন। আধুনিকায়ন করবেন। নতুন শিল্পীদের জন্য কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণে পরিচালকদের সরকারীভাবে উৎসায়িত করবেন। নতুন ও পুরনো শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন করবেন। অনেক স্বপ্ন। কিন্তু হয়নি।’’

‘‘২০১৮ সালের একদিন আপা বললো রবিন চলো রাজশাহী যাবো। সেখানে একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিবো। কিন্তু পারিবারিক কাজের কারণে সময় বের করতে পারলাম না। এরমধ্যে আপা ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবি পরিচালনার উদ্যোগ নিলেন। সরকারী অনুদানের জন্য আবেদন করলেন। কিন্তু প্রথম বার অন্যরা পেলেও আপা অনুদান পেলেন না। কস্ট পেলেন। আপার বাসায় বসে এ নিয়ে অনেক কথা হলো। পরেরবার অনুদান পেলেন, তবে আশানুরূপ নয়। যাক। আপা একদিন বললেন নায়িকা চয়েজ করার জন্য কলকতায় যাবেন। আমি বললাম আপা আপনার সাথে যাবো। আপা অনেক খুশি হয়ে বললেন সত্যি যাবে? হ্যা বলতেই পরক্ষনে বললেন তোমার পাসপোর্ট করা আছে। আপা ভিসাও লাগানো আছে এক বছরের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমিই সময় করতে পারিনি। আমার দু:ভাগ্য।’’

‘‘২০১৯ সালের ১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের দেওড়া গ্রামে একটি সামাজিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন আপা। মানবজমিনের নির্বাহী সম্পাদক শামীমুল হক আমার মাধ্যমে আপাকে অতিথি করেছেন। গুলশানের বাসা থেকে আমরা রওয়ানা হলাম। গাড়িতে আপা আর আমি পুরো রাস্তায় গল্প করলাম। অনেক কথা। সেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কারো একজনের ক্যামেরায় এক ফ্রেমে বন্দি হলাম আপার সাথে। এটাই আপার সাথে আমার শেষ ফটোশেসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফেরার পথেও অনেক গল্প হেলা আপার সাথে। কথা যেন শেষ হয় না। এক পর্যায়ে আপা বললেন রবিন এবার অসহায় মানুষের জন্য কাজ করবো। সারাদেশ চষে বেড়াবো। বলেছি আপা আপনার সাথে আছি।

ওই বছরের মাঝামাঝি আপা ফোন দিয়ে জানালেন নারায়ণগঞ্জ আসতেছি। প্রেসক্লাবে যাবো। আপা আসলেন কিন্তু প্রেসক্লাবে উঠতে পারলেন না। কারণ আমাদের প্রেসক্লাব আগে তৃতীয় তলায় ছিল। শিপট করে ৫ম তলায় নেয়া হয়েছে। লিফট না থাকার কারণে আপা নিচ থেকে ফিরে গেলেন।’’

‘‘২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে তল্লায় মসজিদের ভেতর জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে ৩৪ জন মুসল্লি মারা গিয়েছিল। আপা ঘটনার পর দিনই ৫ সেপ্টেম্বর ফোন দিয়ে বিস্তারিত জেনেছেন। অনেক ব্যাথিত হয়েছিলেন ওই ঘটনায়। এরপর অনেকবার কথা হয়েছে আপা সাথে। বারবারই সর্তক করে আপা বলতেন তোমাকে তো নিউজ করার জন্য বাইরে যেতে হয় সাবধানে থাইকো। পিপি, মাস্ক, স্যানিটাইজার সাথে রাখবা। বাসায় গিয়ে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিবা। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক। কবে যে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে। আল্লাহই জানেন। আমাকে এতোটা সাবধানে থাকতে বলে নিজেই করোনার আক্রমনের শিকার হলেন আপা। মরণঘাতি করোনা শেষ পর্যন্ত আপাকে বাঁচতে দিলো না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপাকে জান্নাতবাসী করুক।’’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও