দোর্দান্ত ক্রিকেট ওপেনার বিদ্যুৎ এখন ব্যবসায়ী

কালের কণ্ঠ হতে নেওয়া : || ১০:৩৬ পিএম, ১ জুন ২০২১ মঙ্গলবার

দোর্দান্ত ক্রিকেট ওপেনার বিদ্যুৎ এখন ব্যবসায়ী

বিশ্বকাপের রঙিন মঞ্চ। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ। জিওফ অ্যালটের প্রথম বলের মুখোমুখি হয়ে ইতিহাসেরই অংশ হয়ে যান ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। একইভাবে টেস্টেও বাংলাদেশের হয়ে প্রথম বল খেলেছেন তিনি। এই দুটি ‘প্রথম’ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না শাহরিয়ার হোসেনের কাছ থেকে।

১৯৯৯ সালে মেরিল কাপে বাংলাদেশের হয়ে করতে পারতেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটাও। কিন্তু ৯৫ রানে হয়ে যান এলবিডাব্লিউ। সেই হতাশাটা ভুলতে পারেননি। আজ ৪৫তম জন্মদিনেও মনে পড়ল সেই হতাশার স্মৃতিটা, ‘৫টা রান করতে পারলে ছেলে-মেয়েরা বলতে পারত দেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি ওদের বাবাই করেছে। সেদিন সেঞ্চুরি না পাওয়াটাকে দুর্ভাগ্যই বলব আমি।’ ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা ব্রাদার্সে কাটানো শাহরিয়ার ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফির আগে ছিলেন সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার। কিন্তু রান না পাওয়ায় ঐতিহাসিক সেই দলের সঙ্গে মালয়েশিয়া যেতে না পারাটা পোড়ায় তাঁকে।

আক্রমণাত্মক, ভয়ডরহীন ব্যাটিং আর স্টাইলিশ ওপেনার হিসেবেই খ্যাতি ছিল শাহরিয়ারের, যিনি বিদ্যুৎ নামে পরিচিত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুরুর যুগে সে সময়ের নামি সব পেসারের বলে করেছেন সাহসী ব্যাটিং। ’৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতারদের মতো পেসারদের সামলে করেছিলেন ৩৯ রান। বিশ্বকাপের পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী বোলিং সামলে দুই ইনিংসে করেছিলেন ৪৫ ও ৪৭। এর আগে সেই মেরিল কাপেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মেহরাব হোসেনের সঙ্গে গড়েছিলেন ১৭০ রানের উদ্বোধনী জুটি, যে রেকর্ডটা টিকে ছিল প্রায় দুই দশক।

এমন একজন ব্যাটসম্যান অভিমানে অবসর নিয়ে ফেলেন মাত্র ২৮ বছর বয়সে! ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা ছন্দে থেকেও ২০০৩ সালে যেতে পারেননি অস্ট্রেলিয়া সফরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ‘এ’ দলের হয়ে সফরে যেতে বলায় বিকেএসপির ক্যাম্প ছেড়ে কাউকে কিছু না বলে চলে আসেন বাড়িতে। পরে ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে জানিয়ে দেন অবসরের ঘোষণা।

অবসরের পর পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগ দেন শাহরিয়ার হোসেন। প্যারাডাইজ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক তিনি। এই গ্রুপের অধীনে কেবলস, স্পিনিং মিল, গার্মেন্ট, টেলিকম, আবাসন ব্যবসাও আছে। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ক্রিকেট লিগগুলোতে স্পন্সর করে এই গ্রুপ। সাবেকরা অনেকে কোচিং বা ধারাভাষ্যে এলেও শাহরিয়ার হোসেন ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে। ব্যবসা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে সময় পান না কোনো টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেওয়ারও। স্ত্রী নার্গিস ইসলাম, দুই মেয়ে শায়রা ও সুরা আর ছেলে ইয়ামিনকে নিয়ে সুখের সংসার। গানপাগল শায়রার আছে গানের অ্যালবাম। আর ছেলে ইয়ামিনের ঝোঁক আছে ক্রিকেটে। বাবার মতো ক্রিকেটার হতে চাইলে বাধা দিতে চান না শাহরিয়ার। জন্মদিনটা সাদামাটাভাবে কাটালেও পছন্দ করেন পরিবারের সঙ্গে থাকতে, ‘এই বয়সে বাড়তি কোনো আয়োজন থাকে না জন্মদিনে। তবে ভালো লাগে পরিবারের সঙ্গে যতটা সময় পারা যায় থাকতে।’


বিভাগ : খেলাধুলা


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও