গর্বের স্টেডিয়াম পানিতে তলায়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪২ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

গর্বের স্টেডিয়াম পানিতে তলায়

সড়কের পাশেই বিশাল জলাশয়। সেখান থেকে উঁকি মারছে স্টেডিয়ামের বাতির পিলারগুলো। মাঠের গ্যালারির বাইরের অংশও দেখা যাচ্ছে সড়ক থেকে। কিন্তু বিশাল জলাশয়ের পরে স্টেডিয়াম আর ঠিকমত দেখা যায় না। চারদিকে জলাবদ্ধতা আর জলজ উদ্ভিদ দেখে মনে হয় স্টেডিয়ামটি যেন এক টুকরো দ্বীপ। অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় এ জলাবদ্ধতা। মাঠের বাইরের জলাশয়ের পানি গড়িয়ে স্টেডিয়ামের ভেতরেও ঢুকে গেছে। সেখানে এখন বড় ঘাস। আর বাইরে তো জলাশয় কচুরিপনায় ভরপুর। এতে করে হুমকির মুখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই ক্রিকেট ভেন্যুর ভবিষ্যৎ।

দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে আউটার স্টেডিয়ামসহ পুরো এলাকা কচুরিপানায় ভরে গেছে। মূল মাঠেও ঢুকে পড়েছে পানি। নষ্ট হয়েছে সিঁড়ি, ছাউনি, স্কোরবোর্ড, সাধারণ ও ভিআইপি গ্যালারি।

একসময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও গত বছর চারেক ধরে সব বন্ধ। ফতুল্লায় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬। দুটি টেস্ট, ১০টি ওয়ানডে ও চারটি টি-২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। এদিকে, মূল স্টেডিয়াম লাগোয়া আউটার স্টেডিয়াম যেখানে খেলোয়াড়রা সাধারণ অনুশীলন করত, সেটাও জলমগ্ন।

সরেজমিনে স্টেডিয়ামটির ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। স্টেডিয়ামের লিংক রোড সংলগ্ন গেইট দিয়ে প্রবেশের শুরুতেই দেখা যায় ময়লার স্তূপ। লিংক রোড ও স্টেডিয়ামের মাঝে থাকা পানি নিষ্কাশনের ক্যানেলটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রি বক্স ও অন্যান্য স্থাপনার গ্লাসগুলো ভাঙাচোরা। গ্যালারিতে দর্শকদের রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর ছাউনি কবে ভেঙে গেছে তা হয়তো ভুলে গেছে কর্তৃপক্ষ।

বাইরের অনুশীলন করার জায়গার অবস্থা আরও খারাপ। বৃষ্টির পানি ও ডিএনডি খালের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত পানিতে এই জায়গা এখন ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে।

বছরের পর বছর এভাবেই আটকে আছে পানি। এতে করে চরম দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে। আর জমে থাকা পানি এখন নানা পোকামাকড় আর মশার আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বপ্নের স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা থাকবে কি না, তাই প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটি ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ বনাম কেনিয়ার এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। একই বছরের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বনার ভারতের একটি এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হয় এর এক দিনের ম্যাচের ইতিহাস।

২০০৬ সালের ৯-১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয় স্টেডিয়ামটির টেস্টের ইতিহাস। ২০১৫ সালের ১০-১৪ জুন বাংলাদেশ বনাম ভারতের টেস্ট ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে শেষ হয় এই স্টেডিয়ামের টেস্ট ম্যাচের ইতিহাস। এখানে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। বর্তমানে মাঠটিতে দুই একটি ক্লাবের খেলা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের খেলা ছাড়া আর কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হয় না। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মাঠটির নেই কোনো দেখভাল।

অবহেলায় পড়ে থাকতে থাকতে এখন মাঠটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো এক সময় মাঠটি একেবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, মাঠটি নির্মাণের সময় বড় ধরনের ভুল করা হয়। মাঠের জায়গাটি এক সময় জলাভূমি ছিল। ডিএনডির ভয়ংকর জলাবদ্ধতার মধ্যে এটি পড়েছে। নির্মাণের সময় আশপাশে বসতবাড়ি বেশি না থাকলেও এখন বসতবাড়ির পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে অন্যান্য জায়গা থেকে এটি নিচু হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় যে ক্যানেল দিয়ে এই মাঠের পানি নিষ্কাশন হওয়ার কথা এখন সেটা দিয়েই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকা।

এমন অবস্থা দেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনারই ইঙ্গিত বহন করে। আর তাই ক্রীড়ামোদিও সংগঠকদের দাবি, অবিলম্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে স্টেডিয়ামগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পায়।

এলাকাবাসীর দাবি যাতে দ্রুত স্টেডিয়ামের পাশে থাকা ময়লা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভির আহমেদ টিটু বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার এখানে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এটা দুঃখজনক ব্যাপার। ডিএনডির কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে তখন হয়তো চিরস্থায়ী সমাধানে আসা যাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যৌথভাবে বুয়েটের মাধ্যমে তারা এটাকে সার্ভে করিয়েছে কিভাবে করলে ভাল থাকবে। বুয়েট অলরেডি তাদের সার্ভে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্ব। তারা যে কোনো সময় কাজ শুরু করবে আবার খেলা শুরু করার জন্য। আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং নারায়ণগঞ্জবাসী হিসেবে দাবী জানাই বুয়েটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কার্যক্রম করতে হবে সেটা যেন অতিদ্রুত শুরু করে।


বিভাগ : খেলাধুলা


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও