পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা ভীতিকর : আসলাম সানি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৫ পিএম, ৯ জুন ২০২০ মঙ্গলবার

পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা ভীতিকর : আসলাম সানি

বিকেএমইএ এর সাবেক সহ সভাপতি এএইচ আসলাম সানি বলেছেন, ‘পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা একটি বিশাল ভীতিকর অবস্থা। আমরা অনেকে বলি পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা আতঙ্কিত যে তাঁদের কাজ নেই। তেমনি মালিকেরাও আতঙ্কিত। লকডাউনের সাথে সাথে আমাদের রানিং অর্ডারের ৫০ শতাংশ হয় স্থগিত নয়তো বাতিল হয়েছে। শুধু বিজিএমইএ এর সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বন্ধ হয়েছে। তার সাথে তিন মাসের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল রয়েছে। বিকেএমইএ, বিজিএমইএ সহ সব মিলিয়ে পোষাক মালিকরা করোনাভাইরাসের ইফেক্টে ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।’

৮ জুন মঙ্গলবার রাত ১০ টায় করোনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের লাইভ টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সনদ সাহা সানি।

আসলাম সানি আরো বলেন, ‘চার মাসের রপ্তানি আয়ের সমপরিমাণ ইমিডিয়েটলি ক্ষতি আমাদের হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে আনা যাচ্ছে না। এখন আমার ফ্যাক্টরী চালাতে গেলে প্রতিদিন নগদ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমি রপ্তানি করতে পারছি না। তাহলে টাকা কোথায় থেকে পাবো। শ্রমিকের রানিং ক্যাপিটাল সহ অন্যান্য খরচের জন্য টাকা পাচ্ছি না। অনেক ব্যাংক বন্ধ। আবার প্রতিটি ফ্যাক্টরীতে নতুন করে পুঁজি সঞ্চার করে কেউ যদি চালাতে চায় সে পারবে নয়তো আর চালাতে পারবে না।’

আসলাম সানি বলেন, ‘আমাদের চাহিদা কমে গেছে। অনেক কিছু বন্ধ। আমাদের ডেভেলপমেন্ট অনুকূলে না। সব মিলিয়ে পোষাক শিল্পের আগামী সিজন মানে জুলাই আগষ্টে অনেক ফ্যাক্টরীতে ৮০ শতাংশ অর্ডার থাকবে না। কারণ নতুন ডেভেলপমেন্ট নাই। নতুন ডেভেলপমেন্ট যদি জুলাই মাসে হয় তাহলে সেপ্টেম্বর, অক্টবর থেকে প্রোডাকশন শুরু হবে। তাই আগামী তিন মাস ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফ্যাক্টরীতে কাজ থাকবে বাকি ৬০ বা ৭০ শতাংশ ফ্যাক্টরীতে কাজ থাকবে না। ফ্যাক্টরীগুলোর দৈনন্দিন যে খরচ এগুলো যে মালিক যোগাড় করতে পারবে সে চার মাস পরে কাজ শুরু করতে পারবে। যদি টাকা যোগাড় করতে না পারে সে ক্ষেত্রে আমরা আশঙ্কা করছি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফ্যাক্টরী বাংলাদেশে আবার চালু করা কঠিন হবে।’

বিজিএমইএ এর সভাপতির শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন আমার মনে হয় উনি বাস্তব কথাটিই তুলে ধরতে চেষ্টা করেছিলেন। আসল কথা হলো আপনার যদি কাজ না থাকে একটি বন্ধ ফ্যাক্টরী খোলা রেখে কতদিন শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবো। এটি তাঁর একটি আশঙ্কা। মালিকের হাতে যখন টাকা থাকবে না তখন কিভাবে খোলা রাখবে? করোনাভাইরাসের কারণে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়ে গেলো। কিন্তু কোনো বায়ার বলল না যে শ্রমিকের বেতনের একটি অংশ তাঁরা দিবেন। সমস্ত লোকসান কিন্তু মালিকের কাধে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের কথা যে মালিকেরা ইচ্ছে করে গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। আমার ফ্যাক্টরী বন্ধ করে আমার কি লাভ হবে? আমার যে হাজার হাজার ইনভেস্টমেন্ট, মেসিনারিজ, বিল্ডিং এগুলো তো জঞ্জালে পরিণত হবে। এটার কোনো ভেল্যু থাকবে না। মালিক তাঁর ফ্যাক্টরীকে নিজের সন্তানের মত ভালোবাসে। কখনই চাইবে না ফ্যাক্টরী বন্ধ করতে।’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের যেভাবে আমাদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের জন্যও কিছু করা উচিত। আমার পারসোনাল মতামত হচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে ৭০ শতাংশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী আবার ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে। আমাদের মালিকদের যে সাহসিকতা যা পূর্বেও আমরা দেখেছি। যে সহযোগিতা সরকার দিয়েছে এটি যদি আরো দুই মাস বৃদ্ধি করে। তাহলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’


বিভাগ : টক শো


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও