নাসিকের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট : চন্দন শীল

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৮ পিএম, ১৭ জুন ২০২০ বুধবার

নাসিকের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট : চন্দন শীল

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় দুই পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল বলেছেন ‘আমার কষ্টের জায়গাটি হচ্ছে যে বাংলাদেশের যতগুলো বোমা হামলা ঘটেছে একুশে গ্রেনেড হামলা সহ সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। যে বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে কোথাও ঘটেনি। অন্যান্য জায়গার কথা বাদ দিলেও নারায়ণগঞ্জের জন্য অত্যন্ত বেদনার একটি দিন। যেভাবে এটিকে পালন করার প্রয়োজন ছিল আমার মনে হয় সেভাবে কেউ পালন করে নাই। এই ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে। একটি কুচক্রি মহল তো করেছেই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এই অপপ্রচারে সাই দিয়েছে এবং তাঁরা নিজেরাও অপপ্রচার চালিয়েছে।’

১৬ জুন মঙ্গলবার রাত ১০ টায় নিউজ নারায়ণগঞ্জের লাইভ টকশোতে ২০০১ সালে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের অফিসে বোমা হামলার ১৯ বছর নিয়ে ‘বোমা হামলার ১৯ বছরের যন্ত্রনা’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

শহীদদের স্মৃতি রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় আমি সন্তুষ্ট না। বিচার কার্য শুরু হওয়ার আগে খুব তাড়াহুড়ো করে এটাকে ভেঙ্গে ফেলাটা আমার কাছে সমীচিন মনে হয়নি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটি আলামত নষ্ট করার একটি পায়তারা। সিটি করপোরেশনের প্রতি আমি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি এই কারণে যে গত বছর আমরা দেখলাম স্মৃতিস্তম্ভের সাথে একটি ডাস্টবিন করে রাখা হয়েছে। প্রতিবাদ জানানোর পরে সরানো হয়। সিটি করপোরেশনের অর্থের এতই অভাব যে স্মৃতিস্তম্ভের সঙ্গে লাগিয়ে পাবলিক টয়লেট করতে হয়েছে। সিটি করপোরেশনের টাকার এতই অভাব যে এই স্মৃতিস্তম্ভের ভেতর দিয়ে সিড়ি করে একটি দোকান বা শো রুম ভাড়া দিতে হবে। এরকম একটি ঘটনায় যেখানে প্রথম সারির নেতারা নিহত হয়েছে। সেখানে কোনো মতে একটু নামগুলোও এমন পাথরের উপর লেখা হয়েছে যে এখন পড়তে গেলে ম্যাগনিভাইন গ্লাস লাগে। আমি এটি যথেষ্ট মনে করি না।’

চন্দন শীল বলেন, ‘আমরা চাই কালকে সকালে উঠে বিচারের রায় দেখতে চাই এবং রায় কার্যকর দেখতে চাই। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। বাংরাদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করতে ৩০ বছর লেগে গেছে। সেই তুলনায় আমরা তো নগন্য মানুষ। আমরা অপেক্ষা করব যতদিন হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার না হচ্ছে। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব এই হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য।

নিহত সাইদুল হাসান বাপ্পীর ছোট ভাই কামরুল হাসান মুন্না বলেন, ‘অনুভূতির কিছু নেই। শুধু বেদনাবিধুর দিন, বেদনাবিধুর বছর। আমরা দেখেছি বর্তমান সরকার কয়েকবার ক্ষমতায় এসেছেন। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের বিচার পেয়েছি। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। এখনো আশাবাদি এই সরকারের আমলেই আমরা বিচারের পূর্ণাঙ্গ রায় পাবো এবং কার্যকারিতা দেখতে পাবো।

বিচার কার্যের ধীরগতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘বোমা হামলার পরে ২০১৩ সাল পর্যন্ত একটি মামলার ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বার বার পরিবর্তন করা হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতায় চলে যায়। ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনাটি একাধিক এজেন্সির কাছে পরিবর্তন করা হয়। কখনো পরিবর্তন কখনো হস্তান্তর এরকম অনেকবার হয়েছে। এরপর ২০১৩ সালে চার্জশীট হয়েছে।’


বিভাগ : টক শো


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও